প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এবং এর পেছনে গোয়েন্দা তথ্যের সঠিকতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এক বিশাল রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট দাবি করেছেন, যুদ্ধের আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একমত ছিল যে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কেন্ট জানান যে, সিআইএ-সহ গোয়েন্দা সম্প্রদায় যুদ্ধের আগেই নির্ভুলভাবে কিছু পূর্বাভাস দিয়েছিল:
ইরান আক্রান্ত হলে এশীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে।
ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেবে।
ইরানি নেতৃত্বের ওপর হামলা চালানো হলে দেশটির শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং কট্টরপন্থীরা উৎসাহিত হবে।
জো কেন্টের মতে, গোয়েন্দাদের এই পেশাদার মূল্যায়ন থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল এবং তাদের শক্তিশালী লবির তৈরি করা এজেন্ডা ও প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। গত মার্চ মাসে নৈতিক কারণে পদত্যাগ করা এই কর্মকর্তা দাবি করেন, ইরান আমেরিকার জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না।
জো কেন্টের এই দাবিকে 'ভিত্তিহীন' এবং 'মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল জানান:
ইরান বিশ্বের বৃহত্তম সন্ত্রাসবাদী পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র।
আমেরিকানদের ওপর হামলার আসন্ন হুমকি ছিল বলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শক্তিশালী প্রমাণের ভিত্তিতেই আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এক পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েল তাকে যুদ্ধে প্ররোচিত করেনি। বরং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার ভয়াবহতা এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
বিশ্বের দুই প্রান্তে বড় শক্তির এই সংঘাত বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য সবসময়ই চিন্তার বিষয়। ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসও বৈদেশিক শক্তির প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ আদর্শিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ব্রিটিশ আমল (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ পর্যন্ত এই অঞ্চলের মানুষ ব্রিটিশদের কৌশলী রাজনীতির সাক্ষী ছিল, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য ও রাজনৈতিক এজেন্ডার লড়াই সবসময় বিদ্যমান ছিল।
মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব (১৯৭১): ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল মূলত পরাশক্তির শোষণ থেকে মুক্তির ডাক। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও পরাশক্তিগুলোর গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে বিশাল ফারাক লক্ষ্য করা গিয়েছিল।
গণতন্ত্র ও ভূ-রাজনীতি (১৯৯০-২০২৪): ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার পতনের পর বাংলাদেশ বিশ্ব রাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে যে নতুন সচেতনতা তৈরি করেছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে কোনো অসম যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলতে শেখায়।
২০২৬-এর বর্তমান প্রেক্ষাপট: ২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ এখন এক নতুন রাষ্ট্র সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত কয়েক লাখ বাংলাদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা নিয়ে ঢাকা উদ্বিগ্ন। ২০২৬ সালের এই উত্তাল সময়ে বাংলাদেশ শান্তি ও সংলাপের পক্ষে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সচেষ্ট।
ইতিহাস সাক্ষী, ১৯০০ সালের সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্ত থেকে ২০২৬ সালের আধুনিক যুদ্ধ—সবক্ষেত্রেই গোয়েন্দা তথ্যের চেয়ে মাঝেমধ্যে রাজনৈতিক এজেন্ডা বেশি প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। জো কেন্টের দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি ইরাক যুদ্ধের সময়কার ভুল গোয়েন্দা তথ্যের পুনরাবৃত্তি হিসেবে গণ্য হবে। ১৯০০ সালের সেই পরাধীন আমল থেকে ২০২৬ সালের স্বাধীন বাংলাদেশ—আমাদের প্রত্যাশা সবসময়ই ছিল একটি যুদ্ধমুক্ত এবং ন্যায়বিচার ভিত্তিক বিশ্ব।
সূত্র: ১. ফক্স নিউজ ও ফক্স নিউজ ডিজিটাল (জো কেন্টের দাবি ও হোয়াইট হাউসের বিবৃতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন)। ২. প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট (এপ্রিল ২০২৬)। ৩. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বৈশ্বিক কূটনীতির ইতিহাস (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র এসইও কনসালট্যান্ট ও ডিজিটাল পাবলিশার
ওয়েবসাইট:
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |